দোয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ মানবজাতিকে হেদায়েত করার জন্য পবিত্র কোরআন নাযিল করেছেন। এতে একদিকে যেমন তিনি স্রষ্টার অস্তিত্ব ও একত্ব, সৃষ্টি ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, তেমনি ইবাদতের পদ্ধতি, মানুষের জন্য কল্যাণকর ও অকল্যাণকর বিষয়, মানুষের ভুলভ্রান্তি, পাপ ও অনুতাপ, পুরস্কার ও প্রতিদান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কেও বলেছেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ভুলত্রুটির ক্ষমা বা বিপদাপদ থেকে মুক্তির জন্য কীভাবে তাঁকে ডাকতে হবে, কোরআনে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নবী-রাসূল ও মুমিন বান্দারা কীভাবে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং তাঁর কাছে কী কী চাইতেন, পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে তা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও দিনের নানা সময়ে ও নানা অবস্থায় দোয়া করতেন এবং তা শিখিয়েছেন।
নিচে এমন কিছু আয়াত ও হাদীস আরবি পাঠ, উচ্চারণ ও অর্থসহ উল্লেখ করা হলো।
পবিত্র কোরআনে দোয়া
আল্লাহর কাছে দোয়া করার নির্দেশ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তাঁর কাছে দোয়া করতে বলেছেন।
১. তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴿٦٠﴾
Wa qāla rabbukumud‘ūnī astajib lakum, innal-ladhīna yastakbirūna ‘an ‘ibādatī sayadkhulūna jahannama dākhirīn.
তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশে আমার ইবাদতে বিমুখ, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
(সূরা মুমিন (গাফির), ৪০:৬০)
২. দোয়া করার পদ্ধতি
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মানুষকে তাঁর কাছে দোয়া করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন:
فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ﴿٢٠٠﴾ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿٢٠١﴾ أُولَٰئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٢٠٢﴾
Fa minan-nāsi man yaqūlu rabbanā ātinā fid-dunyā wa mā lahū fil-ākhirati min khalāq. Wa minhum man yaqūlu rabbanā ātinā fid-dunyā hasanatan wa fil-ākhirati hasanatan wa qinā ‘adhāban-nār. Ulā’ika lahum nasībum mimmā kasabū, wallāhu sarī‘ul-hisāb.
‘মানুষের মধ্যে যারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালেই দাও”, পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশ নেই। আর তাদের মধ্যে যারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর”, তারা যা অর্জন করেছে তার প্রাপ্য অংশ তাদেরই। আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।’
(সূরা বাকারা, ২:২০০-২০২)
নবী-রাসূলগণের দোয়া
নবী-রাসূলগণ মহান আল্লাহর কাছে নানা বিষয়ে প্রার্থনা করতেন: কখনো ধর্ম প্রচারে সাহায্যের জন্য, কখনো কাফিরদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা চেয়ে, কখনো নিজের জন্য, কখনো পিতামাতা, কখনো আবার বংশধরদের জন্য। নিচে এমন কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো।
১. হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর দোয়া
কাবাঘরের ভিত্তি তোলার সময় তাঁরা নিজেদের বংশধারায় নবী প্রেরণের জন্য দোয়া করেছিলেন:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿١٢٨﴾ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٢٩﴾
Rabbanā taqabbal minnā, innaka antas-samī‘ul-‘alīm. Rabbanā waj‘alnā muslimayni laka wa min dhurriyyatinā ummatam muslimatal laka, wa arinā manāsikanā wa tub ‘alaynā, innaka antat-tawwābur-rahīm. Rabbanā wab‘ath fīhim rasūlam minhum yatlū ‘alayhim āyātika wa yu‘allimuhumul-kitāba wal-hikmata wa yuzakkīhim, innaka antal-‘azīzul-hakīm.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই কাজ কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর থেকে তোমার এক অনুগত উম্মত কর। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল প্রেরণ কর, যে তোমার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তেলাওয়াত করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
(সূরা বাকারা, ২:১২৭-১২৯)
২. মক্কা নগরী ও এর মুমিন অধিবাসীদের জন্য হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ﴿١٢٦﴾
Rabbij‘al hādhā baladan āminan warzuq ahlahū minath-thamarāti man āmana minhum billāhi wal-yawmil-ākhir.
‘হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর কর, আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদেরকে ফলমূল থেকে জীবিকা দান কর।’
(সূরা বাকারা, ২:১২৬)
رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ ﴿٣٥﴾ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣٦﴾ رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ ﴿٣٧﴾
Rabbij‘al hādhal-balada āminan wajnubnī wa baniyya an na‘budal-asnām. Rabbi innahunna adlalna kathīram minan-nās, fa man tabi‘anī fa innahū minnī, wa man ‘asānī fa innaka ghafūrur-rahīm. Rabbanā innī askantu min dhurriyyatī bi wādin ghayri dhī zar‘in ‘inda baytikal-muharram, rabbanā li yuqīmus-salāta faj‘al af’idatam minan-nāsi tahwī ilayhim warzuqhum minath-thamarāti la‘allahum yashkurūn.
‘হে আমার প্রতিপালক! এ নগরীকে নিরাপদ কর এবং আমাকে ও আমার পুত্রদেরকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখ। হে আমার প্রতিপালক! এ সব প্রতিমা তো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে-ই আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কিছুকে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের কাছে; হে আমাদের প্রতিপালক! এজন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব তুমি কিছু মানুষের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলাদি দিয়ে তাদের রিযিকের ব্যবস্থা কর, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’
(সূরা ইবরাহীম, ১৪:৩৫-৩৭)
৩. নিজের, সন্তানদের, পিতামাতা ও মুমিনদের জন্য হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ ﴿٤٠﴾ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ ﴿٤١﴾
Rabbij‘alnī muqīmas-salāti wa min dhurriyyatī, rabbanā wa taqabbal du‘ā’. Rabbanaghfir lī wa li wālidayya wa lil-mu’minīna yawma yaqūmul-hisāb.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী কর এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার প্রার্থনা কবুল কর। হে আমাদের প্রতিপালক! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’
(সূরা ইবরাহীম, ১৪:৪০-৪১)
৪. জ্ঞান ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গ চেয়ে হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ ﴿٨٣﴾ وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ ﴿٨٤﴾ وَاجْعَلْنِي مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ ﴿٨٥﴾ وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ ﴿٨٦﴾ وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ ﴿٨٧﴾ يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿٨٨﴾ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ﴿٨٩﴾
Rabbi hab lī hukman wa alhiqnī bis-sālihīn. Waj‘al lī lisāna sidqin fil-ākhirīn. Waj‘alnī min warathati jannatin-na‘īm. Waghfir li abī innahū kāna minad-dāllīn. Wa lā tukhzinī yawma yub‘athūn. Yawma lā yanfa‘u mālun wa lā banūn. Illā man atallāha bi qalbin salīm.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর। আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত কর না, যেদিন ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে।’
(সূরা শুআরা, ২৬:৮৩-৮৯)
৫. হযরত ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের দোয়া
رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٤﴾ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٥﴾
Rabbanā ‘alayka tawakkalnā wa ilayka anabnā wa ilaykal-masīr. Rabbanā lā taj‘alnā fitnatal lil-ladhīna kafarū waghfir lanā rabbanā, innaka antal-‘azīzul-hakīm.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমারই ওপর নির্ভর করেছি, তোমারই অভিমুখী হয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন তো তোমারই কাছে। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের পীড়নের পাত্র কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের ক্ষমা কর; তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
(সূরা মুমতাহিনা, ৬০:৪-৫)
৬. সীমালঙ্ঘন থেকে বাঁচতে ও কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দোয়া
নবীদের সঙ্গে থেকে যাঁরা আল্লাহর পথে লড়েছিলেন, বিপদে তাঁদের কথা এ ছাড়া আর কিছু ছিল না:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿١٤٧﴾
Rabbanaghfir lanā dhunūbanā wa isrāfanā fī amrinā wa thabbit aqdāmanā wansurnā ‘alal-qawmil-kāfirīn.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং আমাদের কাজে সীমালঙ্ঘন তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখ এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।’
(সূরা আলে ইমরান, ৩:১৪৭)
৭. হযরত নূহ (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٤٧﴾
Rabbi innī a‘ūdhu bika an as’alaka mā laysa lī bihī ‘ilm, wa illā taghfir lī wa tarhamnī akum minal-khāsirīn.
‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে যাতে তোমার কাছে প্রার্থনা না করি, এজন্য আমি তোমার আশ্রয় চাই। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর এবং আমাকে দয়া না কর, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’
(সূরা হূদ, ১১:৪৭)
৮. নৌযানে আরোহণের পর হযরত নূহ (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبَارَكًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ ﴿٢٩﴾
Rabbi anzilnī munzalam mubārakan wa anta khayrul-munzilīn.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করাও যা হবে কল্যাণকর; আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।’
(সূরা মুমিনূন, ২৩:২৯)
৯. হযরত মূসা (আ.)-এর দোয়া
ধর্ম প্রচারের কাজ সহজ করে দেওয়া এবং আপন ভাই হযরত হারূন (আ.)-কে সহযোগী করে দেওয়ার জন্য হযরত মূসা (আ.) এই প্রার্থনা করেছিলেন:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ﴿٢٥﴾ وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ﴿٢٦﴾ وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي ﴿٢٧﴾ يَفْقَهُوا قَوْلِي ﴿٢٨﴾ وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي ﴿٢٩﴾ هَارُونَ أَخِي ﴿٣٠﴾ اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي ﴿٣١﴾ وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي ﴿٣٢﴾
Rabbishrah lī sadrī, wa yassir lī amrī, wahlul ‘uqdatam mil lisānī, yafqahū qawlī, waj‘al lī wazīram min ahlī, hārūna akhī, ushdud bihī azrī, wa ashrik-hu fī amrī.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার স্বজনদের মধ্য থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী করে দাও, আমার ভাই হারূনকে; তাঁর দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর এবং তাঁকে আমার কাজে অংশী কর।’
(সূরা তা-হা, ২০:২৫-৩২)
১০. হযরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া
মাছের পেটে অন্ধকারে থাকা অবস্থায় হযরত ইউনুস (আ.) এ দোয়া করেছিলেন:
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٨٧﴾
Lā ilāha illā anta subhānaka innī kuntu minaz-zālimīn.
‘তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমালঙ্ঘনকারী।’
(সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৭)
১১. হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ ﴿٨٩﴾
Rabbi lā tadharnī fardan wa anta khayrul-wārithīn.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একা রেখো না, তুমি তো শ্রেষ্ঠ মালিকানার অধিকারী।’
(সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৯)
মুমিন বান্দাদের দোয়া
পবিত্র কোরআনে মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার পাশাপাশি তাদের দোয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে।
১. ভুলত্রুটি ক্ষমা ও সাধ্যের বাইরের বোঝা না চাপানোর দোয়া
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾
Rabbanā lā tu’ākhidhnā in nasīnā aw akhta’nā, rabbanā wa lā tahmil ‘alaynā isran kamā hamaltahū ‘alal-ladhīna min qablinā, rabbanā wa lā tuhammilnā mā lā tāqata lanā bih, wa‘fu ‘annā waghfir lanā warhamnā, anta mawlānā fansurnā ‘alal-qawmil-kāfirīn.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি, তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ কর না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের ওপর অর্পণ কর না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।’
(সূরা বাকারা, ২:২৮৬)
২. বোধশক্তিসম্পন্ন (জ্ঞানী) ব্যক্তিদের দোয়া
যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে, তারা বলে:
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴿١٩٢﴾ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾
Rabbanā mā khalaqta hādhā bātilan subhānaka faqinā ‘adhāban-nār. Rabbanā innaka man tudkhilin-nāra faqad akhzaytah, wa mā liz-zālimīna min ansār. Rabbanā innanā sami‘nā munādiyan yunādī lil-īmāni an āminū bi rabbikum fa āmannā, rabbanā faghfir lanā dhunūbanā wa kaffir ‘annā sayyi’ātinā wa tawaffanā ma‘al-abrār. Rabbanā wa ātinā mā wa‘adtanā ‘alā rusulika wa lā tukhzinā yawmal-qiyāmah, innaka lā tukhliful-mī‘ād.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা অনর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র; তুমি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি কাউকে আগুনে নিক্ষেপ করলে তাকে তো নিশ্চয়ই অপমানিত করলে, আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো”; সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দাও এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে মৃত্যু দিও। হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা আমাদেরকে দাও এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে অপমানিত কর না। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম কর না।’
(সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯১-১৯৪)
৩. ক্ষমা ও দয়ার জন্য ঈমানদারদের দোয়া
আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা বলত:
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ ﴿١٠٩﴾
Rabbanā āmannā faghfir lanā warhamnā wa anta khayrur-rāhimīn.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
(সূরা মুমিনূন, ২৩:১০৯)
৪. জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির দোয়া
‘রহমান’-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে, অজ্ঞ লোকেরা তাদের সম্বোধন করলে বলে ‘সালাম’, আর রাত কাটায় তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশে সিজদায় ও দাঁড়িয়ে থেকে; এবং তারা বলে:
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ﴿٦٥﴾ إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا ﴿٦٦﴾
Rabbanasrif ‘annā ‘adhāba jahannama inna ‘adhābahā kāna gharāmā, innahā sā’at mustaqarran wa muqāmā.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি দূর করে দাও, তার শাস্তি তো নিশ্চিত বিনাশ; নিশ্চয়ই তা অস্থায়ী ও স্থায়ী আবাস হিসেবে নিকৃষ্ট।’
(সূরা ফুরকান, ২৫:৬৫-৬৬)
৫. হযরত মূসা (আ.)-এর সময় যাদুকরদের দোয়া
মূসা (আ.)-এর মোকাবিলায় ফিরআউন যাদুকরদের নিয়ে আসে। যাদুকররা মূসা (আ.)-এর মুজেযার কাছে পরাজিত হয়ে ঈমান আনে। এতে ফিরআউন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যার নির্দেশ দেয়। তবুও তারা ঈমান ত্যাগ করেনি, বরং আল্লাহর কাছে তাদের প্রার্থনা ছিল:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ ﴿١٢٦﴾
Rabbanā afrigh ‘alaynā sabran wa tawaffanā muslimīn.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর এবং মুসলমানরূপে আমাদেরকে মৃত্যু দাও।’
(সূরা আরাফ, ৭:১২৬)
কোরআনে যা চাইতে শেখানো হয়েছে
১. সরল পথের হেদায়েত
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿١﴾ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٢﴾ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾
Bismillāhir-rahmānir-rahīm. Al-hamdu lillāhi rabbil-‘ālamīn. Ar-rahmānir-rahīm. Māliki yawmid-dīn. Iyyāka na‘budu wa iyyāka nasta‘īn. Ihdinas-sirātal-mustaqīm. Sirātal-ladhīna an‘amta ‘alayhim ghayril-maghdūbi ‘alayhim wa lad-dāllīn.
‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, কর্মফল দিবসের মালিক। আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধে পতিত ও পথভ্রষ্ট।’
(সূরা ফাতিহা, ১:১-৭)
২. অন্তরকে সত্য পথে দৃঢ় রাখার দোয়া
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ ﴿٨﴾
Rabbanā lā tuzigh qulūbanā ba‘da idh hadaytanā wa hab lanā mil ladunka rahmah, innaka antal-wahhāb.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ দেখানোর পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য থেকে বিচ্যুত কর না এবং তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে করুণা দান কর; নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।’
(সূরা আলে ইমরান, ৩:৮)
৩. বাবা-মায়ের জন্য দোয়া
মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা নামিয়ে দাও এবং বল:
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿٢٤﴾
Rabbirhamhumā kamā rabbayānī saghīrā.
‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালনপালন করেছিলেন।’
(সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:২৪)
৪. সব কাজে কল্যাণ কামনা
رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا ﴿٨٠﴾
Rabbi adkhilnī mudkhala sidqin wa akhrijnī mukhraja sidqin waj‘al lī mil ladunka sultānan nasīrā.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করে আনো কল্যাণের সাথে, আর তোমার কাছ থেকে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।’
(সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:৮০)
৫. জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا ﴿١١٤﴾
Rabbi zidnī ‘ilmā.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।’
(সূরা তা-হা, ২০:১১৪)
৬. শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয়
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ ﴿٩٧﴾ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ ﴿٩٨﴾
Rabbi a‘ūdhu bika min hamazātish-shayātīn, wa a‘ūdhu bika rabbi an yahdurūn.
‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় চাই শয়তানের প্ররোচনা থেকে; হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় চাই আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে।’
(সূরা মুমিনূন, ২৩:৯৭-৯৮)
৭. ক্ষমা প্রার্থনা
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ ﴿١١٨﴾
Rabbighfir warham wa anta khayrur-rāhimīn.
‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
(সূরা মুমিনূন, ২৩:১১৮)
৮. সৎ জীবনসঙ্গী ও সন্তানের দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴿٧٤﴾
Rabbanā hab lanā min azwājinā wa dhurriyyātinā qurrata a‘yunin waj‘alnā lil-muttaqīna imāmā.
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান কর, যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর, এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য কর।’
(সূরা ফুরকান, ২৫:৭৪)
৯. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্য চেয়ে দোয়া
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿١٥﴾
Rabbi awzi‘nī an ashkura ni‘matakal-latī an‘amta ‘alayya wa ‘alā wālidayya wa an a‘mala sālihan tardāhu wa aslih lī fī dhurriyyatī, innī tubtu ilayka wa innī minal-muslimīn.
‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার সেই অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছ, এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ কর। আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিকে সৎকর্মপরায়ণ কর। আমি তোমারই দিকে ফিরে এসেছি এবং আমি অবশ্যই আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’
(সূরা আহকাফ, ৪৬:১৫)
হাদীসে দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) দিনের বিভিন্ন সময়ে ও নানা অবস্থায় যেসব দোয়া পড়তেন বা পড়তে শিখিয়েছেন, তার কয়েকটি নিচে দেওয়া হলো। হাদীসের খণ্ড ও নম্বর বাংলা অনুবাদের সংস্করণ অনুযায়ী।
দোয়ার আদব
১. দুই হাত তুলে দোয়া করা
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করার সময় তাঁর উভয় হাত তুলতেন এবং তা দিয়ে মুখমণ্ডল না মোছা পর্যন্ত হাত নামাতেন না।
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ (ص) إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩২২)
নামাজে ও ক্ষমা প্রার্থনায়
১. নামাজে পড়ার দোয়া
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আবু বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন, যা আমি নামাজে পড়ব।’ তিনি বললেন, ‘তুমি নামাজে এ দোয়াটি পড়বে:’
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
Allāhumma innī zalamtu nafsī zulman kathīran, wa lā yaghfirudh-dhunūba illā anta, faghfir lī min ‘indika maghfiratan, innaka antal-ghafūrur-rahīm.
‘হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর অনেক বেশি জুলুম করেছি, আর তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। তাই তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমিই তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৮৭২ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা))
২. সাইয়িদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)
শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) তাঁকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে সাইয়িদুল ইস্তিগফার বলে দেব না? তা হলো:’
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، وَأَبُوءُ إِلَيْكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَعْتَرِفُ بِذُنُوبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ
Allāhumma anta rabbī lā ilāha illā anta, khalaqtanī wa ana ‘abduka, wa ana ‘alā ‘ahdika wa wa‘dika mastata‘tu, a‘ūdhu bika min sharri mā sana‘tu, wa abū’u ilayka bi ni‘matika ‘alayya, wa a‘tarifu bi dhunūbī, faghfir lī dhunūbī, innahū lā yaghfirudh-dhunūba illā anta.
‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর দৃঢ় থাকব। আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নিয়ামতের কথা স্বীকার করি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করি। কাজেই তুমি আমার গুনাহগুলো মাফ কর, কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।’
নবী (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ এ কথাগুলো সন্ধ্যায় বলার পর ভোর হওয়ার আগে মারা গেলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়; তেমনি ভোরে বলার পর সন্ধ্যার আগে মারা গেলেও তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, নাসাঈ ও বুখারী)
ঘুমানো, জেগে ওঠা ও রাতের দোয়া
১. ঘুমানোর আগে ও জেগে ওঠার পর
হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ঘুমানোর জন্য বিছানায় গেলে বলতেন:
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
Allāhumma bismika amūtu wa ahyā.
‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি (ঘুমাই) এবং তোমার নামেই জীবিত হই (জেগে উঠি)।’
আর ঘুম থেকে জেগে উঠে বলতেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
Al-hamdu lillāhil-ladhī ahyānā ba‘da mā amātanā wa ilayhin-nushūr.
‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মৃত্যুর (ঘুমের) পর আমাদের আবার জীবিত করেছেন, আর তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।’
আবু যার (রা.)-এর বর্ণনায় শব্দটি বহুবচনে: ‘বিসমিকা নামূতু ওয়া নাহইয়া’ (তোমার নামেই আমরা মরি ও বাঁচি)।
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৮৭৮ ও ৬৮৮০ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা); তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৫১)
২. বিছানায় শোয়ার সময় নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা
বারা ইবনে আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) এক ব্যক্তিকে বললেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন বলবে:
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
Allāhumma aslamtu nafsī ilayka, wa wajjahtu wajhī ilayka, wa fawwadtu amrī ilayka, wa alja’tu zahrī ilayka, raghbatan wa rahbatan ilayka, lā malja’a wa lā manjā minka illā ilayka, āmantu bi kitābikal-ladhī anzalta, wa bi nabiyyikal-ladhī arsalta.
‘হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার মুখ তোমার দিকে ফেরালাম, আমার সব কাজ তোমার ওপর সোপর্দ করলাম এবং তোমার প্রতি আশা ও ভয় নিয়ে তোমার ওপর ভরসা করলাম। তোমার কাছ থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয় ও মুক্তির পথ তুমি ছাড়া আর কোথাও নেই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছ এবং যে নবী পাঠিয়েছ, আমি তার প্রতি ঈমান এনেছি।’
এ দোয়া পড়ার পর সে রাতে মৃত্যু হলে ইসলামের ওপর মৃত্যু হবে, আর জীবিত থেকে সকালে জেগে উঠলে পুরস্কার লাভ করবে। তিরমিযীতে রাফে ইবনে খাদীজ (রা.) থেকেও প্রায় একই দোয়া বর্ণিত, ডান কাতে শুয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে (৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৩১)।
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৯৭০ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা))
৩. কিয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে আশ্রয়
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ঘুমানোর সময় নিজের ডান হাত মাথার নিচে রেখে বলতেন:
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ عِبَادَكَ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
Allāhumma qinī ‘adhābaka yawma tajma‘u ‘ibādaka aw tab‘athu ‘ibādak.
‘হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের সমবেত করবে অথবা পুনরুত্থিত করবে, সেদিন আমাকে তোমার শাস্তি থেকে রক্ষা কোরো।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৩৪)
৪. ঋণমুক্তি ও অভাব দূর করার দোয়া
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ করতেন, আমাদের কেউ ঘুমানোর জন্য বিছানায় গেলে যেন বলে:
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَرَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، وَفَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَالظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَالْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ
Allāhumma rabbas-samāwāti wa rabbal-aradīna wa rabbanā wa rabba kulli shay’, wa fāliqal-habbi wan-nawā, wa munzilat-tawrāti wal-injīli wal-qur’ān, a‘ūdhu bika min sharri kulli dhī sharrin anta ākhidhum bi nāsiyatih, antal-awwalu fa laysa qablaka shay’, wa antal-ākhiru fa laysa ba‘daka shay’, waz-zāhiru fa laysa fawqaka shay’, wal-bātinu fa laysa dūnaka shay’, iqdi ‘annid-dayna wa aghninī minal-faqr.
‘হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলীর প্রভু, যমীনসমূহের প্রভু, আমাদের প্রভু ও প্রতিটি জিনিসের প্রভু, শস্যবীজ ও আঁটির অংকুরোদগমকারী এবং তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী! আমি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই, যারা সবাই তোমার আয়ত্তাধীন। তুমিই আদি, তোমার আগে কিছুই নেই; তুমিই অন্ত, তোমার পরে কিছুই নেই; তুমিই প্রকাশ্য, তোমার ওপরে কিছুই নেই; তুমিই গুপ্ত, তোমার থেকে কিছুই গোপন নয়। তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দাও এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করে দাও।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৩৬; আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, নাসাঈ ও মুসলিম)
৫. রাতে ঘুম ভাঙলে
উবাদা ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে জেগে উঠে বলে:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
Lā ilāha illallāhu wahdahū lā sharīka lah, lahul-mulku wa lahul-hamd, wa huwa ‘alā kulli shay’in qadīr, wa subhānallāh, wal-hamdu lillāh, wa lā ilāha illallāh, wallāhu akbar, wa lā hawla wa lā quwwata illā billāh.
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁর, এবং তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া অন্যায় থেকে বিরত থাকার বা ভালো কাজ করার শক্তি কারও নেই।’
এরপর সে বলবে ‘রাব্বিগফিরলী’ (হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা কর), অথবা কোনো দোয়া করবে, তা কবুল করা হবে। আর সে যদি দৃঢ় সংকল্প করে অজু করে নামাজ পড়ে, তবে তার নামাজ কবুল করা হবে।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৪৯; আরও বর্ণনা করেছেন: বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
৬. তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) গভীর রাতে নামাজে দাঁড়ালে বলতেন:
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
Allāhumma lakal-hamdu anta nūrus-samāwāti wal-ard, wa lakal-hamdu anta qayyāmus-samāwāti wal-ard, wa lakal-hamdu anta rabbus-samāwāti wal-ardi wa man fīhinn, antal-haqq, wa wa‘dukal-haqq, wa liqā’uka haqq, wal-jannatu haqq, wan-nāru haqq, was-sā‘atu haqq. Allāhumma laka aslamtu, wa bika āmantu, wa ‘alayka tawakkaltu, wa ilayka anabtu, wa bika khāsamtu, wa ilayka hākamtu, faghfir lī mā qaddamtu wa mā akhkhartu wa mā asrartu wa mā a‘lantu, anta ilāhī lā ilāha illā anta.
‘হে আল্লাহ! সব প্রশংসা তোমার, তুমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর। সব প্রশংসা তোমার, তুমিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে প্রতিষ্ঠিত রেখেছ। সব প্রশংসা তোমার, তুমিই আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এদের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর প্রতিপালক। তুমিই সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য, তোমার সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার ওপর ঈমান এনেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি, তোমার দিকেই ফিরে এসেছি, তোমার জন্যই বিবাদ করি এবং তোমাকেই বিচারক মানি। সুতরাং আমার আগের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য সব গুনাহ তুমি মাফ করে দাও। তুমিই আমার ইলাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৫২; আরও বর্ণনা করেছেন: বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
সকাল ও সন্ধ্যার দোয়া
১. সব রকম ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা
উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কোনো বান্দা প্রতিদিন সকালে ও প্রতি রাতে সন্ধ্যায় তিনবার করে এ দোয়াটি পড়লে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
Bismillāhil-ladhī lā yadurru ma‘asmihī shay’un fil-ardi wa lā fis-samā’i wa huwas-samī‘ul-‘alīm.
‘আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩২৪)
২. সন্ধ্যায় সন্তুষ্টির ঘোষণা
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় বলে:
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا
Radītu billāhi rabban, wa bil-islāmi dīnan, wa bi muhammadin nabiyyā.
‘আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
তার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩২৫)
৩. সকাল ও সন্ধ্যার দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের শিখিয়ে বলতেন, তোমাদের কেউ ভোরে উপনীত হলে যেন বলে:
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
Allāhumma bika asbahnā wa bika amsaynā wa bika nahyā wa bika namūtu wa ilaykal-masīr.
‘হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার হুকুমেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার হুকুমেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার হুকুমেই মৃত্যুবরণ করি। তোমার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।’
আর সন্ধ্যায় উপনীত হলে যেন বলে:
اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
Allāhumma bika amsaynā wa bika asbahnā wa bika nahyā wa bika namūtu wa ilaykan-nushūr.
‘হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার হুকুমেই ভোরে উপনীত হই, তোমার হুকুমেই জীবন ধারণ করি এবং তোমার হুকুমেই মৃত্যুবরণ করি। তোমার কাছেই আমাদের পুনরুত্থান।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩২৭; আরও বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও নাসাঈ)
ঘর থেকে বের হওয়া, বাজার ও সফর
১. ঘর থেকে বের হওয়ার সময়
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি বলে:
بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
Bismillāh, tawakkaltu ‘alallāh, lā hawla wa lā quwwata illā billāh.
‘আল্লাহর নামে (বের হলাম), আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার ও কল্যাণ লাভের শক্তি কারও নেই।’
তখন তাকে বলা হয়, (আল্লাহই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি রক্ষা পেয়েছ; আর শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬০; আরও বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ ও নাসাঈ)
২. পথভ্রষ্টতা ও জুলুম থেকে আশ্রয়
উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলতেন:
بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ نُظْلَمَ أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا
Bismillāh, tawakkaltu ‘alallāh. Allāhumma innā na‘ūdhu bika min an nazilla aw nadilla aw nazlima aw nuzlama aw najhala aw yujhala ‘alaynā.
‘আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমরা পদস্খলন থেকে, পথভ্রষ্টতা থেকে, জুলুম করা থেকে বা জুলুমের শিকার হওয়া থেকে, অজ্ঞতাবশত কারও প্রতি অশোভন আচরণ থেকে বা আমাদের প্রতি কারও অজ্ঞতাপ্রসূত আচরণ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬১; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, নাসাঈ ও হাকেম)
৩. বাজারে প্রবেশের সময়
সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে লোক বাজারে গিয়ে বলে:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
Lā ilāha illallāhu wahdahū lā sharīka lah, lahul-mulku wa lahul-hamd, yuhyī wa yumītu wa huwa hayyun lā yamūt, bi yadihil-khayr, wa huwa ‘alā kulli shay’in qadīr.
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সব প্রশংসা তাঁর; তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না; কল্যাণ তাঁরই হাতে, এবং তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’
আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকী লেখেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬৩)
৪. কোথাও যাত্রাবিরতি করলে
খাওলা বিনতে হাকীম আস-সুলামিয়্যা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কেউ কোনো স্থানে অবতরণ করে যদি বলে:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
A‘ūdhu bi kalimātillāhit-tāmmāti min sharri mā khalaq.
‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই তাঁর সৃষ্টির সব অনিষ্ট থেকে।’
সে ওই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারে না।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ)
৫. সফরে বের হওয়ার সময়
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) সফরে বের হওয়ার সময় সওয়ারীতে আরোহণ করে আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলতেন:
اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ، اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا بِنُصْحِكَ وَاقْلِبْنَا بِذِمَّةٍ، اللَّهُمَّ ازْوِ لَنَا الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ
Allāhumma antas-sāhibu fis-safari wal-khalīfatu fil-ahl. Allāhummas-habnā bi nushika waqlibnā bi dhimmah. Allāhummazwi lanal-arda wa hawwin ‘alaynas-safar. Allāhumma innī a‘ūdhu bika min wa‘thā’is-safari wa ka’ābatil-munqalab.
‘হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমার সাথী এবং পরিবার-পরিজনের মধ্যে আমার প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! কল্যাণসহ তুমি আমাদের সাথী হও এবং তোমার নিরাপত্তায় আমাদের ফিরিয়ে আনো। হে আল্লাহ! পথকে আমাদের জন্য সংক্ষিপ্ত করে দাও এবং সফর সহজ করে দাও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সফরের কষ্ট থেকে এবং ফিরে আসার দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতা থেকে আশ্রয় চাই।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৭২; আরও বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, নাসাঈ ও হাকেম)
৬. সফর থেকে ফেরার সময়
বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, নবী (সা.) সফর থেকে ফিরে এসে বলতেন:
آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
Āyibūna tā’ibūna ‘ābidūna li rabbinā hāmidūn.
‘আমরা (নিরাপদে) প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৭৪; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ)
বিপদ, অসুস্থতা ও রাগের সময়
১. বিপদের সময়ের দোয়া
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, বিপদের সময় নবী (সা.) এই বলে দোয়া করতেন:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَلِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
Lā ilāha illallāhul-‘alīmul-halīm, lā ilāha illallāhu rabbul-‘arshil-‘azīm, lā ilāha illallāhu rabbus-samāwāti wa rabbul-ardi rabbul-‘arshil-karīm.
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহাজ্ঞানী ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক।’
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৯১৩ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা); তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬৯)
২. অসুস্থ অবস্থায় তাওহীদের ঘোষণা
আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, কেউ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বললে তার প্রতিপালক তাকে সত্যায়ন করে বলেন, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমিই মহান। এভাবে বান্দার প্রতিটি বাক্যের জবাবে আল্লাহ তা নিজের পক্ষ থেকে ঘোষণা করেন। বাক্যগুলো হলো:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
Lā ilāha illallāhu wallāhu akbar. Lā ilāha illallāhu wahdah. Lā ilāha illallāhu wahdahū lā sharīka lah. Lā ilāha illallāhu lahul-mulku wa lahul-hamd. Lā ilāha illallāhu wa lā hawla wa lā quwwata illā billāh.
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সব প্রশংসাও তাঁর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার বা কল্যাণ লাভের শক্তি কারও নেই।’
নবী (সা.) বলতেন, যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় এ বাক্যগুলো পড়ে, তারপর মারা যায়, জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করতে পারবে না।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬৪; আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনে মাজাহ, নাসাঈ ও হাকেম)
৩. বিপদগ্রস্ত কাউকে দেখলে
উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে বলে:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً
Al-hamdu lillāhil-ladhī ‘āfānī mimmabtalāka bih, wa faddalanī ‘alā kathīrim mimman khalaqa tafdīlā.
‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর আমাকে মর্যাদা দিয়েছেন।’
সে যতদিন বাঁচবে, ওই বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন, এ দোয়া মনে মনে পড়বে, যাতে বিপদগ্রস্ত লোকটি শুনতে না পায়।
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৬৫)
৪. রাগ উঠলে
মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, দুই ব্যক্তি নবী (সা.)-এর সামনে পরস্পরকে গালি দিচ্ছিল, এমনকি তাদের একজনের চেহারায় রাগ ফুটে উঠল। তখন নবী (সা.) বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ লোকটি তা বললে তার রাগ চলে যেত:
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
A‘ūdhu billāhi minash-shaytānir-rajīm.
‘আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৮৬; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ)
প্রকৃতির নিদর্শন দেখলে
১. প্রবল বাতাস বইলে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) প্রবল বেগে বাতাস বইতে দেখলে বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
Allāhumma innī as’aluka min khayrihā wa khayri mā fīhā wa khayri mā ursilat bih, wa a‘ūdhu bika min sharrihā wa sharri mā fīhā wa sharri mā ursilat bih.
‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে কল্যাণসহ এটি প্রেরিত হয়েছে তা প্রার্থনা করি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যে অনিষ্টসহ এটি প্রেরিত হয়েছে তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৮৩)
২. বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেন:
اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ، وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ، وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
Allāhumma lā taqtulnā bi ghadabika wa lā tuhliknā bi ‘adhābika wa ‘āfinā qabla dhālik.
‘হে আল্লাহ! তোমার গজব দিয়ে আমাদের মেরো না, তোমার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস কোরো না, বরং তার আগেই আমাদের নিরাপদ রাখো।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৮৪; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ ও হাকেম)
৩. নতুন চাঁদ দেখলে
তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) নতুন চাঁদ দেখে বলতেন:
اللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالإِيمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالإِسْلاَمِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ
Allāhumma ahlilhu ‘alaynā bil-yumni wal-īmān, was-salāmati wal-islām, rabbī wa rabbukallāh.
‘হে আল্লাহ! এ চাঁদকে আমাদের জন্য বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে উদিত কর। (হে নতুন চাঁদ!) আল্লাহই আমার ও তোমার প্রতিপালক।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৮৫; আরও বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, দারিমী ও হাকেম)
অন্যান্য সময়ের দোয়া
১. তিলাওয়াতের সিজদায়
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) রাতে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর সিজদায় বলতেন:
سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ
Sajada wajhiya lil-ladhī khalaqahū wa shaqqa sam‘ahū wa basarahū bi hawlihī wa quwwatih.
‘আমার মুখমণ্ডল সেই মহান সত্তাকে সিজদা করল, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের শক্তি ও ক্ষমতায় তাতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।’
(তিরমিযী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৩৩৫৯)
২. দাম্পত্য মিলনের আগে
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ স্ত্রীর সঙ্গে মিলনের আগে যদি বলে:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
Bismillāh, Allāhumma jannibnash-shaytāna wa jannibish-shaytāna mā razaqtanā.
‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে তুমি যা (সন্তান) দান করবে তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।’
তাহলে এ মিলনে তাদের ভাগ্যে কোনো সন্তান লেখা থাকলে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না।
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৯১০ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা))
৩. আহযাব যুদ্ধের সময় নবী (সা.)-এর দোয়া
আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত, আহযাব যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বলে দোয়া করেছিলেন:
اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، سَرِيعَ الْحِسَابِ، اهْزِمِ الأَحْزَابَ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ
Allāhumma munzilal-kitāb, sarī‘al-hisāb, ihzimil-ahzāb, ihzimhum wa zalzilhum.
‘হে আল্লাহ! কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! তুমি সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত কর, তাদের পরাস্ত কর এবং তাদের প্রকম্পিত করে দাও।’
(সহীহ বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস ৬৯৭১ (আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা))