ইমাম আলী আল-হাদী (আ.)
আল-হাদী, আন-নাকি
দশম ইমাম, যিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় সামাররা সামরিক শহরে কঠোর নজরদারিতে কাটিয়েছিলেন।
- জন্ম
- ১৫ জিলহজ্ব ২১২ হিজরি
- মৃত্যু
- ৩ রজব ২৫৪ হিজরি (সামাররা)
- মৃত্যুর কারণ
- আল-মুতাজ্জ কর্তৃক বিষপ্রয়োগ
সামাররায় জীবন
আহলে বাইতের প্রতি চরম বিদ্বেষী আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল ইমাম হাদী (আ.)-কে মদিনা থেকে সাম্রাজ্যের সামরিক রাজধানী সামাররায় স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেন। অনুসারীদের সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ইমামকে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।
প্রতিনিধিদের নেটওয়ার্ক (উকালা)
এই বিচ্ছিন্নতা মোকাবেলার জন্য, ইমাম ইসলামী বিশ্ব জুড়ে প্রতিনিধিদের (উকালা) একটি বিশাল গোপন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করেন। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে ইমামের সরাসরি শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ধর্মীয় কর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে নিরাপদে নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে, যা মূলত ১২তম ইমামের আসন্ন অন্তর্ধানের জন্য তাদের প্রস্তুত করছিল।
জিয়ারতে জামিয়া কাবিরা
তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার হলো জিয়ারতে জামিয়া কাবিরা। একজন ইমামকে কীভাবে সঠিকভাবে সালাম দিতে হবে এবং তাঁর মর্যাদা কীভাবে বুঝতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গভীর জিয়ারতটি শিক্ষা দেন। এটি শিয়া ধর্মতত্ত্বের এক অনন্য দলিল, যা আহলে বাইতের ঐশী কর্তৃত্ব, পবিত্রতা এবং সার্বজনীন ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।