আল-কাসিম ইবনে হাসান (আঃ)
কারবালার সাহসী কিশোর (আহলা মিন আল-আসাল)
ইমাম হাসান (আঃ) এর সাহসী কিশোর পুত্র, যিনি সত্যের পথে মৃত্যুকে মধুর চেয়েও মিষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- জন্ম
- ৪৭ হিজরি (৬৬৭ খ্রিঃ), মদিনা
- মৃত্যু
- ১০ মুহাররম ৬১ হিজরি (৬৮০ খ্রিঃ), কারবালা
- মৃত্যুর কারণ
- কারবালার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন
প্রাথমিক জীবন ও বংশপরিচয়
আল-কাসিম ছিলেন ইমাম হাসান আল-মুজতাবা (আঃ)-এর পুত্র এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দৌহিত্র। পিতার শাহাদাতের পর তিনি তাঁর চাচা ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর স্নেহের ছায়ায় বেড়ে ওঠেন। আহলে বাইতের পরিবারে লালিত-পালিত হওয়ার কারণে তিনি তাঁর মহান বংশের সাহস, বাকপটুতা এবং অটল বিশ্বাসের উত্তরাধিকারী হন।
কারবালায় ভূমিকা
আশুরার সেই ভাগ্য নির্ধারণী দিনে, মাত্র ১৩ বা ১৪ বছরের কিশোর হওয়া সত্ত্বেও, কাসিম ইমাম হুসাইন (আঃ)-কে রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বারবার তাঁর চাচার কাছে রণক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি চান। প্রথমে, ভাইয়ের সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে ইমাম হুসাইন তাঁকে বারণ করেন। কিন্তু কাসিম তাঁর মৃত পিতা ইমাম হাসানের লেখা একটি চিঠি (বা তাবিজ) দেখান, যেখানে প্রয়োজনে ইমাম হুসাইনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার নির্দেশ ছিল। এটি দেখে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁকে অনুমতি দেন।
এর আগে ইমাম হুসাইন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি মৃত্যুকে কেমন মনে করেন, তখন কাসিম তাঁর সেই অমর উত্তরটি দিয়েছিলেন: "মধুর চেয়েও মিষ্টি" (আহলা মিন আল-আসাল)।
শাহাদাত
রণক্ষেত্রে তিনি তাঁর শরীরের তুলনায় বড় পোশাক এবং মাপমতো বর্ম ছাড়াই প্রবেশ করেন এবং প্রচণ্ড বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ উমাইয়া যোদ্ধাকে হত্যা করেন। অবশেষে আমর ইবনে সাদ ইবনে নুফাইল আল-আজদীর পিছন থেকে করা এক মারাত্মক আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি তাঁর চাচাকে ডাক দিলে ইমাম হুসাইন দ্রুত ছুটে আসেন এবং আক্রমণকারীকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনি দেখেন যে কাসিম তাঁর কোলেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করছেন। শিয়া ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলোতে এই ট্র্যাজেডি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শীভাবে বর্ণিত হয়েছে। (সূত্র: Al-Islam.org)