ইসলামের ঘটনাবলি
ইসলামী বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সেদিনের ঘটনাবলী।
সাজান:
- মাব'আস — নবুয়তের দিন (বে-সাত)২৭ রজব, নবী মুহাম্মদ (সা.) হেরা গুহায় তাঁর প্রথম ঐশী ওহী লাভ করেন, যা তাঁর নবুওয়াতী মিশনের (মাবআস) আনুষ্ঠানিক সূচনা চিহ্নিত করে।২৭ রজব
- ১৯ রমযান — ইমাম আলি (আ.) এর আঘাত প্রাপ্তির রাত১৯ রমযান, কুফার মসজিদে ফজরের নামাজের ইমামতি করার সময় ইবনে মুলজমের বিষাক্ত তলোয়ারের আঘাতে ইমাম আলি (আ.) মাথায় গুরুতর আহত হন।১৯ রমযান ৪০ হিজরী
- লাইলাতুল কদর — ক্ষমতার রাত (২১ রমযান)২১ রমজান ব্যাপকভাবে লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) হিসেবে পালিত হয়, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম একটি রাত এবং এটি ইমাম আলীর (আ.) শাহাদতের রাতও।২১ রমযান ৪০ হিজরী
- জান্নাতুল বাকি ধ্বংসের দিন (ইয়াওম-এ-গাম)১৩৪৪ হিজরির ৮ শাওয়াল, মদিনার জান্নাতুল বাকিতে থাকা ইমামদের পবিত্র মাজারগুলো ওয়াহাবি শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা মর্মান্তিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল।৮ শাওয়াল ১৩৪৪ হিজরী
- ঈদুল আযহা — কোরবানির ঈদঈদুল আযহা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নিজ পুত্রকে কোরবানি করার আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অটল আনুগত্য এবং আল্লাহর দয়াপূর্ণ হস্তক্ষেপের স্মরণে পালিত হয়।১০ জিলহজ্ব
- ঈদুল গাদীর — ইমাম আলীর নিয়োগ১৮ জিলহজ, গাদীর খুম্মে নবী (সা.) আনুষ্ঠানিকভাবে ইমাম আলী (আ.)-কে তাঁর উত্তরসূরি এবং মুসলমানদের নেতা হিসেবে নিয়োগ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, 'আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা।'১৮ জিলহজ্ব ১০ হিজরী
- ঈদ-ই-মুবাহিলা২৪ জিলহজ মুবাহিলার ঘটনা ঘটে, যেখানে নবী (সা.) নাজরানের খ্রিস্টানদের মোকাবেলা করার জন্য ইমাম আলি, বিবি ফাতিমা, ইমাম হাসান এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে নিয়ে গিয়েছিলেন।২৪ জিলহজ্ব ১০ হিজরী
এ বছরের আগের তারিখগুলো
১ মহররম — ইসলামী নববর্ষইসলামী হিজরী সনের প্রথম দিন এবং পবিত্র মহররম মাসের সূচনা। এই দিনে ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মক্কা ত্যাগ করেন।১ মহররম- ২ মহররম — ইমাম হুসাইনের কারবালায় আগমন৬১ হিজরির ২ মহররম ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর কাফেলা কারবালার প্রান্তরে পৌঁছান। হুর ইবনে ইয়াজিদ আল-রিয়াহির বাহিনী তাঁদের বাধা দেয় এবং সেখানে তাঁবু ফেলতে বাধ্য করে।২ মহররম ৬১ হিজরী
- ৩ মহররম — উমর ইবন সা'দের আগমনউমর ইবনে সাদ উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের পাঠানো ৪,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে কারবালায় পৌঁছান। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শিবিরের চারপাশে অবরোধ তীব্র হতে শুরু করে।৩ মহররম ৬১ হিজরী
- ৪ মহররম — সেনাবাহিনীর বৃদ্ধিউবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আরও সৈন্য পাঠানোর ফলে কারবালায় শত্রু বাহিনী বাড়তে থাকে। ইমাম হুসাইন (আ.) শত্রু সৈন্যদের বিবেক জাগ্রত করার জন্য ভাষণ দেন।৪ মহররম ৬১ হিজরী
- ৫ মহররম — চূড়ান্ত আলোচনাআলোচনার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা অনুষ্ঠিত হয়। শিমর ইবনে জিলজাওশান কারবালায় পৌঁছে উমর ইবনে সাদকে অবিলম্বে আক্রমণ করতে বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেয়।৫ মহররম ৬১ হিজরী
- ৬ মহররম — আব্বাসের নদীতে পৌঁছানোর চেষ্টা৬ মহররম হাবিব ইবনে মুজাহির বনু আসাদ গোত্র থেকে সাহায্যকারী আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইয়াজিদের বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।৬ মহররম ৬১ হিজরী
- ৭ মহররম — পানি অবরোধ৭ মহররম, উমাইয়া সেনাবাহিনী ফোরাত নদীর তীরে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শিবিরে পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।৭ মহররম ৬১ হিজরী
- ৮ মহররম — অবরোধ কড়া হয়শিবিরে তীব্র তৃষ্ণা বেড়ে যায়। হযরত আব্বাস (আ.) পানি আনার জন্য একটি সাহসী অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং মরিয়া শিশুদের জন্য কিছু পানির মশক আনতে সফল হন।৮ মহররম ৬১ হিজরী
- ৯ মহররম — তাসুয়া৯ মহররম তাসুয়া। শত্রু বাহিনী আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু ইমাম হুসাইন (আ.) ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়ার মাধ্যমে রাত কাটানোর জন্য এক রাতের সময় চান।৯ মহররম ৬১ হিজরী
- ১১ মহররম — আশুরার পরের দিন১১ মহররম আহলে বাইতের তাঁবুগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এবং হযরত জয়নব (সালামুল্লাহ আলাইহি)-এর নেতৃত্বে নারী ও শিশুদের বন্দী হিসেবে কুফায় নিয়ে যাওয়া হয়।১১ মহররম ৬১ হিজরী
- ১২ মহররম — কুফায় বন্দীদের যাত্রাশহীদদের ছিন্ন মস্তক বর্শায় বিদ্ধ করে বন্দীদের কাফেলা কুফায় প্রবেশ করে। ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এবং হযরত জয়নব (সালামুল্লাহ আলাইহি) উমাইয়াদের অপরাধ উন্মোচন করে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।১২ মহররম ৬১ হিজরী
- আরবাইন — ইমাম হুসাইনের (আ.) চেহলাম২০ সফর হলো আরবাইন, যা কারবালায় ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদতের ৪০ দিন পূর্তি চিহ্নিত করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের শ্রদ্ধা জানাতে কারবালায় সমবেত হয়।২০ সফর ৬১ হিজরী
- ঈদে যাহরা এবং ইমাম মাহদীর ইমামতের সূচনা৯ রবিউল আউয়াল ১২তম ইমাম, ইমাম আল-মাহদীর (আ.) ইমামতের প্রথম দিন চিহ্নিত করে এবং এটি ঈদে যাহরা ও আনন্দের দিন হিসেবে পালিত হয়।৯ রবিউল আউয়াল ২৬০ হিজরী